রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে ক্রমবর্ধমানভাবে অবনতিশীল এবং বিশ্বকে আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মস্কোর গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্রাসাদে নতুন নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পুতিন তার বক্তব্যে বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করলেও ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুতি বা ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মতো সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব ছিলেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে চলতি বছরের প্রথম কোনো প্রকাশ্য ভাষণে রুশ প্রেসিডেন্টের এই সতর্ক অবস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং এই সত্যটি নিয়ে সম্ভবত কারোর মনে কোনো সংশয় নেই। তিনি উল্লেখ করেনস, বিশ্বের পুরনো সংঘাতগুলো বর্তমানে আরও তীব্রতর হচ্ছে এবং এর পাশাপাশি নতুন ও গুরুতর সব সংকটের কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হচ্ছে।
ভাষণের সময় পুতিনকে কিছুটা হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেলেও তার বক্তব্যে ছিল বিশ্ব নিরাপত্তার গভীর উদ্বেগ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিভিন্ন হুমকি বা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়েও তিনি কোনো সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
পুতিন তার বক্তব্যে নাম উল্লেখ না করে যুক্তরাষ্ট্রের একপাক্ষিক নীতির সমালোচনা করে বলেন যে, যারা নিজেদের শক্তিশালী মনে করেন, তারা অন্য দেশগুলোর ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া এবং অন্যদের ওপর হুকুম জারি করাকে বৈধ মনে করেন। তারা কেবল একক সংলাপ বা মনোলগে বিশ্বাসী।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, রাশিয়া সবসময়ই একটি ‘মাল্টিপোলার’ বা বহুমুখী বিশ্ব ব্যবস্থার আদর্শে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ইউরোপে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার জন্য রাশিয়ার দেওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পুতিন আশা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আজ হোক বা কাল রাশিয়ার এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করবে এবং ততক্ষণ পর্যন্ত মস্কো তার লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকবে।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ১৯৬২ সালের কিউবান মিসাইল সংকটের পর বর্তমানে রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় অবনতি ঘটেছে। ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ সংঘর্ষ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুতিনের এই কৌশলগত নীরবতা মূলত বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র প্রদানের এই প্রথাগত অনুষ্ঠানে পুতিন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ অবস্থানের বিষয়ে পরোক্ষ কিন্তু জোরালো বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।