
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ-পদোন্নতিতে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া, গতকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষকদের দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যাতে উপাচার্যসহ অন্তত ৪-৬ জন আহত হন।
উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযোগ্য প্রার্থী নিয়োগ, পদোন্নতিতে বৈষম্য এবং প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক দাবি করেন, উপাচার্য পদে যোগদানের পর থেকে এসব সমস্যা বেড়েছে।
বিএনপি-সমর্থিত ‘সাদা দল’-এর শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। গতকালের সংঘর্ষে এই দলের শিক্ষক মোজাম্মেল হকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তারা দাবি করেন, উপাচার্যের সমর্থকরা তাদের আক্রমণ করেছে।
আর্থিক ও অনিয়ম: পূর্ববর্তী রিপোর্ট অনুসারে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা ঠিকাদারি জামানতের টাকা অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত। তবে এটি বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়।
রোববার দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। আহতদের মধ্যে উপাচার্য, প্রক্টর এবং অন্যান্য শিক্ষক রয়েছেন। পরিস্থিতি এখন শান্ত, কিন্তু উত্তেজনা কমেনি ।
উপাচার্য ড. আলিমুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ প্রক্টর বা রেজিস্ট্রার পদ দখলের জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুর্নীতি তদন্তের জন্য কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, কিন্তু শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট। ঘটনার তদন্ত চলমান, এবং আরও প্রতিবাদের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রশাসনিক সমস্যার প্রতিফলন।