সিলেটের হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি এবং ‘সিলটী’ বা ছিলোটি ভাষার গৌরবগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সিলেটে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো "ছিলোটি লোক উৎসব"।
দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে সিলেটের কৃষ্টি ও মরমী সাধকদের জীবন-দর্শন ফুটিয়ে তোলা হয়।
উৎসবের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
এই উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বায়নের যুগে বিলুপ্তপ্রায় সিলেটের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করা।
আয়োজকদের মতে, উৎসবের ‘ছিলোটি’ নাগরী লিপি এবং আঞ্চলিক ভাষার মাধুর্য তুলে ধরা।
মরমী সাহিত্যের প্রসার: রাধারমণ দত্ত, হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম এবং আরকুম শাহর মতো সাধকদের গান ও দর্শন তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত করা।
লোকজ ঐতিহ্যের প্রদর্শনী: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি, বেত শিল্প এবং গ্রামীণ লোকজ অনুষঙ্গ প্রদর্শন। সিলেটের প্রান্তিক লোকশিল্পীদের একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা।
বর্ণিল আয়োজন শহরের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এই উৎসবে ছিল বৈচিত্র্যময় সব আয়োজন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই একটি বর্ণাঢ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বের করা হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উৎসব প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয়েছিল ‘নাগরী ঘর’ এবং ‘মরমী মঞ্চ’।
উৎসবে জুড়ে ছিল ধামাইল গান ও নাচ: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল গানের তালে মেতে ওঠেন আগত দর্শনার্থীরা।নাগরী লিপি পাঠ: প্রাচীন ছিলোটি নাগরী লিপির ওপর বিশেষ কর্মশালা ও প্রদর্শনী।
লোকগীতি সন্ধ্যা: স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের কণ্ঠে সিলেটের কালজয়ী লোকগান।
পিঠা ও লোকজ মেলা: মেলায় স্টলগুলোতে ছিল সিলেটের ঐতিহ্যবাহী চুঙাপুড়া পিঠা, নুনগড়া এবং হস্তশিল্পের সমাহার।
উৎসব কমিটির একজন প্রতিনিধি জানান, "আমরা চাই আমাদের নিজস্ব 'ছিলোটি' পরিচয়টি যেন হারিয়ে না যায়। এটি কেবল একটি মেলা নয়, এটি আমাদের শিকড়কে খোঁজার একটি সংগ্রাম। আমরা প্রতি বছর এই উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করছি।"
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই উৎসব সিলেটি জনমনে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। আগত দর্শনার্থীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, নিজের ভাষাকে সম্মান জানানোর এমন আয়োজন সিলেটে আরও হওয়া প্রয়োজন।