চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ, আষাঢ়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও বৃষ্টির দেখা নেই, উল্টো সূর্যের প্রখর তাপে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে।
দেশের অন্তত বেশ কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ইতিমধ্যে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে, যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ রেকর্ডগুলোর একটি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪টি জেলায় আজ তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং বাকি জেলাগুলোতে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের গরম অনুভূত হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে দেশের পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে গরমের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা: বরাবরের মতোই এই জেলায় তাপমাত্রার পারদ সবচেয়ে উঁচুতে। আজ এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২.২° সেলসিয়াস।
তীব্র গরমে দুপুরের পর শহরের রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে।
যশোর: চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী এই জেলাটিতেও রেকর্ড গরম পড়েছে। আজ এখানকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৫° সেলসিয়াস।
রাজশাহী: বরেন্দ্র অঞ্চলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় শুষ্ক ও উত্তপ্ত হাওয়া বইছে। আজ রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০.৮° সেলসিয়াস।
পাবনা (ঈশ্বরদী): ঈশ্বরদী ও আশেপাশের এলাকায় আজ তাপমাত্রা ছিল ৪০.৫° সেলসিয়াস। তীব্র রোদের কারণে খেটে খাওয়া মানুষেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
"জনজীবনে স্থবিরতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
তীব্র এই গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। দুপুরের তীব্র রোদে বাইরে বের হওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকেরা এই গরমে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা) এবং হিট স্ট্রোকের রোগী বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
"প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের কড়া রোদে বাইরে বের না হওয়াই ভালো। বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর নিরাপদ পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে।"
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে গরমের অনুভূতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হচ্ছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে দেশের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে স্থায়ী স্বস্তির জন্য প্রাক-বর্ষার ভারী বৃষ্টির অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।