
পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, সিলেটে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা ততই জমে উঠছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমোদিত ঐতিহ্যবাহী কাজীরবাজার পশুর হাটসহ প্রধান ৬টি হাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে হাঁকডাক ও দরদাম। পুরো সিলেট বিভাগে এবার প্রায় ২১শ’ কোটি টাকার পশুর বাজার জমে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
মাঝারি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি
আজ সিলেটের বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি। বাজারে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দেশি গরুর চাহিদা সবচেয়ে তুঙ্গে। মধ্যবিত্ত ক্রেতারা সাধ ও সাধ্যের মধ্যে এই সীমার ভেতরেই কোরবানির পশু খুঁজছেন।
অন্যদিকে, ২ থেকে ৪ লাখ টাকা বা তার চেয়ে বেশি মূল্যের বড় গরুর সরবরাহ থাকলেও সেগুলোর বিক্রি কিছুটা ধীরগতির।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা খামারি ও ব্যাপারিরা জানিয়েছেন, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার পশু লালন-পালনের খরচ বেড়েছে, তাই গত বছরের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা চড়া। কুষ্টিয়া থেকে কাজীরবাজার হাটে ১০টি গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী রহমান আলী বলেন, “হাটে প্রচুর গরু এনেছি।
ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন এবং দরদাম করছেন দুপুরের পর থেকে বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে।”
তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রেতারা দাম একটু বেশি হাঁকাচ্ছেন।
দক্ষিণ সুরমার জালালপুর ও দয়ামীর বাজার হাটে আসা ক্রেতা সাহেদ আহমেদ জানান, “পছন্দের গরু অনেক আছে, তবে ব্যাপারিরা দাম ছাড়ছেন না। আশা করছি ঈদের দুই-এক দিন আগে দাম কিছুটা স্বাভাবিক হবে।”
কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অনুমোদিত হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জাল টাকা শনাক্তকরণে প্রতিটি হাটে বসানো হয়েছে বিশেষ বুথ। এছাড়া, হাটের হাসিল (খাজনা) আদায় নিয়ে যাতে কোনো ধরনের হয়রানি না হয়, সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।
সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার সিলেটে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত কোরবানিযোগ্য দেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে বাজারে পশুর কোনো সংকট হবে না এবং বেচাকেনা আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।