
অধিক মুনাফা লাভের আশায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখার অভিযোগে সুনামগঞ্জে এক যুবককে ছয় মাসের কারাদন্ড ও নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (৮ মার্চ) বিকাল ৪ টায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের আহমদাবাদ পয়েন্টে নিজ দোকানে ১১ ব্যারেল জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ রাখার দায়ে সোহেল চৌধুরী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে এ দন্ড দেওয়া হয়।
সাজাপ্রাপ্ত সোহেল চৌধুরী ঐ গ্রামের মৃত গিয়াস চৌধুরীর ছেলে ও বর্তমানে বরখাস্তকৃত অতিরিক্ত সচিব জিল্লুর রহমান চৌধুরীর ভাগ্নে সম্পর্কের আত্মীয়। সচিব মামা জিল্লুর রহমান চৌধুরীর দাপট প্রভাবে জ্বালানী তেলের ডিলারশীপ ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সোহেলের উপর।
এলাকার লোকজন জানান,যে দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে ঐ দোকানটির মালিকও আহমদাবাদ নিবাসী অতিরিক্ত সচিব জিল্লুর রহমান চৌধুরীর আপন ভাই আবু সুফিয়ান চৌধুরী। অভিযান পরিচালনাকালে তিনি কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে তাকে গ্রেফতার না করার জন্য চাপপ্রয়োগ করেন।
কিন্তু আইন প্রয়োগকারীরা স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে ও জনরোষের প্রেক্ষিতে জিল্লুর রহমান চৌধুরীর তদবীরে সাড়া দিতে সাহস করেননি।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবৈধভাবে তেল মজুদ করে আসছিলেন সোহেল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার দোকান থেকে ১১ ব্যারেল (প্রায় ২ হাজার ২০০ লিটার) জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের কারাদন্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
হোসাইন মাহমুদ শাহীন
সুনামগঞ্জ মোবাইল ০১৭১৬-৪৬৯৫০৬