
সিলেটে সরকারি চাকরি ছাড়ার প্রধান কারণ হলো বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা, পেনশন ও চাকরিত্তোর সুবিধা নিশ্চিত করা, এবং কম বেতন ও প্রশাসনিক চাপের কারণে হতাশা।
বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি গত তিন-চার বছরে সিলেটের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইউরোপ, কানাডা ইত্যাদি দেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অনেকেই চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
অসুস্থতার অজুহাত প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে চাকরি ছাড়ার আবেদন করেছেন। এর মাধ্যমে তারা পেনশন ও চাকরিত্তোর সুবিধা নিশ্চিত করছেন।
পেনশন ও সুবিধা নিশ্চিতকরণ
চাকরি ছাড়ার সময় অসুস্থতার কারণ দেখালে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তারা পূর্ণ পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা পান। এটি অনেকের কাছে নিরাপদ পথ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ১১–২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন এত কম যে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেকেই চাকরি করতে না পারার হতাশায় চাকরি ছাড়ছেন।
প্রশাসনিক চাপ ও নতুন নিয়ম নতুন সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী তদন্ত ছাড়াই চাকরিচ্যুত করার বিধান রাখা হয়েছে। এতে কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিদেশে যাওয়ার সুযোগ ইউরোপে ওয়ার্ক পারমিট, কানাডার ভিজিট ভিসা চাকরি ছাড়ার প্রবণতা বেড়েছে অসুস্থতার অজুহাত পেনশন ও সুবিধা নিশ্চিত করতে শতাধিক কর্মকর্তা অবসরের আবেদন করেছেন ।
কম বেতন ১১–২০ গ্রেডে জীবিকা সংকট হতাশা ও চাকরি ছাড়ার চাপ প্রশাসনিক চাপ নতুন অধ্যাদেশে কঠোর শাস্তির ধারা চাকরিতে অনিশ্চয়তা ও ভয়
চাকরিত্তোর সুবিধা অবসরের পর নিরাপত্তা চাকরি ছাড়ার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত ।
প্রশাসনিক শূন্যতা: দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী চলে যাওয়ায় সরকারি দপ্তরে কাজের গতি কমে যাচ্ছে।
জনসেবায় প্রভাব: নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে।
মেধা পাচার: বিদেশে চলে যাওয়ায় স্থানীয় উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
সিলেটের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, সরকারি চাকরি ছাড়ার প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়, বরং বিদেশমুখী আকাঙ্ক্ষা, কম বেতন, এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা মিলেই এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।