
দেশের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধান সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন দূরূহ প্রশিক্ষণ এলাকায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক ও আন্তরিক সফর সেনাসদস্যদের মাঝে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে সেনাবাহিনীর বিশেষ গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা।
কঠোর অনুশীলনের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি
তীব্র রোদ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সেনাসদস্যরা যখন তাদের নিয়মিত ও কঠোর রণকৌশল অনুশীলনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী তাদের মাঝে হাজির হন। তিনি কোনো প্রটোকল বা আনুষ্ঠানিকতার বেড়াজালে না থেকে সরাসরি মাঠপর্যায়ে অবস্থানরত সৈনিক, জেসিও এবং তরুণ অফিসারদের কাছে চলে যান।
প্রধানমন্ত্রী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিজে ঘুরে দেখেন এবং সেনাসদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সেনাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ও মতবিনিময়
পরিদর্শনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের সেনাসদস্যদের সঙ্গে অত্যন্ত অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে বসে কথা বলেন।

তিনি তাদের খোঁজখবর নেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সুখ-দুঃখ ও অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। পরে তিনি সাধারণ সৈনিকদের সঙ্গে একই কাতারে বসে দুপুরের খাবার (মধ্যাহ্নভোজ) গ্রহণ করেন।
সৈনিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের এই কঠোর পরিশ্রম, দেশপ্রেম ও ত্যাগই আমাদের সার্বভৌমত্বের মূল ভিত্তি। দেশের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে মাঠপর্যায়ে আপনাদের এই পেশাদারিত্ব দেখে আমি গর্বিত। সরকার সবসময় আপনাদের পাশে আছে।”
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপ্রধান এভাবে সরাসরি গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণের দুর্গম মাঠে গিয়ে সাধারণ সৈনিকদের সঙ্গে এত দীর্ঘ সময় কাটাননি। এই ঘটনা কেবল সেনাবাহিনীর মনোবল আকাশচুম্বী করবে না, বরং বেসামরিক-সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক সান্নিধ্য পেয়ে উপস্থিত সেনাসদস্যদের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সফর শেষে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।